সূচনা:
কম্পিউটার সৃষ্টির সুস্পষ্ট কোনো ইতিহাস নেই। তবে ধারণা করা হয়ে থাকে গণনা করার প্রচেষ্টা থেকেই কম্পিউটার তৈরির চেষ্টা শুরু হয়। তখনকার(অ্যাবাকাস আবিষ্কার এর আগে) সময় মানুষ গণনা করার জন্য ব্যবহার করতেন বিভিন্ন ধরনের জিনিস যেমন নুড়ি, কুড়ি, দড়ির গিট, ঝিনুক ইত্যাদি। এবং এসব গণনার ফলাফল অর্থাৎ তথ্য সংরক্ষণ করতেন মাটির তৈরি ছক বা সারণি, গাছের ছাল, গাছের পাতা প্রভৃতে।
তারপর আসে অ্যাবাকাস। 5000 বছর আগে চীন দেশে এবাকাস এর জন্ম হয়েছিল। আর এই এবাকাস থেকেই কম্পিউটার তৈরীর ইতিহাসের সূচনা হয়। এই অ্যাবাকাসকে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে ডাকা হতো। যেমন চীনারা ডাকতেন 'সোয়ান-পান' আর জাপানিরা ডাকতেন "সরোবান"।
কম্পিউটার কি
আরও পড়ুন: স্পারসো কি?বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো)।-নিউরনের বিজ্ঞান
অ্যাবাকাস:
আজ থেকে প্রায় 5000 বছর আগে চীন দেশে এবাকাস এর জন্ম হয়েছিল। এ যন্ত্রের মাধ্যমে গণনা করার জন্য বিভিন্ন রঙ্গের বল সুতো দিয়ে গেথে সারি তৈরি করা হতো। যার সাহায্যে খুব সহজে গণনা করা সম্ভব হতো। আর এটিই আধুনিক কম্পিউটার তৈরির পথে এগিয়ে নিয়ে যাই। এবং এ কারণেই অ্যাবাকাস কে কম্পিউটার তৈরি সূচনা ধরা হয়ে থাকে।
নেপিয়ারের অস্থি:
স্কটল্যান্ডের বিজ্ঞানী জন নেপিয়ার 1609 সালে জীবের হার ব্যবহার করে একটি হস্তচালিত
গণনাকারী যন্ত্রের আবিষ্কার করেন। যাকে বলা হয়ে থাকে 'নেপিয়ার রড'। এ যন্ত্রের সাহায্যে খুব সহজে গুন করা যেত এবং গুন করার জন্য ব্যবহার করা হতো জীবের রড। প্রতিটি রোডে 1 থেকে ৯ পর্যন্ত ৯ টি ডিজিট থাকত এবং কলামে থাকতো এক একটি নম্বর এর গুণিতক। যেখানে অ্যাবাকাস ছিল সংখ্যা ভিত্তিক একটি যন্ত্র ব্যবস্থা আর সেখানে নেপিয়ার রড ছিল এনালগ অর্থাৎ তুলনা ভিত্তিক যন্ত্র ব্যবস্থা।
স্লাইডরুল:
1615 খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের গণিতবিদ ও ধর্মযাজক স্লাইডরুল এর আবিষ্কার করেন। এর সাহায্যে যোগ,বিয়োগ ,গুন,ভাগ করা যেত খুব সহজে। এ যন্ত্রটি ছিল খুব উন্নত ও ব্যবহার ছিল খুবই সহজ। যে কারণে এর ব্যবহার হয়েছিল ব্যাপক।1979 সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা স্লাইডরুল ব্যবহার করতেন।
ব্লেইজ প্যাসকেল গণনাকারী যন্ত্র:
1642 সালে ফরাসি বিজ্ঞানী ব্লেইজ প্যাসকেল প্রথম চাকার সাহায্যে গণনাকারী যন্ত্রের তৈরি করেন। তার এই গণনাকারী যন্ত্রে যেহেতু চাকা ছিল তাই দুই দিকে ঘোরানো যেত এবং চাকা ছিল দাতযুক্ত। তার এই গণনাকারী যন্ত্রের সাহায্যে শুধু যোগ বিয়োগ করা যেত। কিন্তু পরবর্তীতে অর্থাৎ এর 30 বছর পর বিজ্ঞানী লিভনিজ আরো একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন যার সাহায্যে গুন ভাগ করা যেত। তবে যন্ত্রটি ব্যবহার এর অসুবিধার জন্য তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি।
ডিফারেন্স ইঞ্জিন:
চার্লস ব্যাবেজ একটি গণনাকারী যন্ত্রের নকশা করেন তার এই যন্ত্রটি বাস্তবে রূপদান করার জন্য তিনি রয়েল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির কাছে আবেদন করেন। বৃটিশ সরকার রয়েল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির সুপারিশে তাকে অর্থ প্রদান করতে রাজি হয়েছিল। তবে চার্লস ব্যাবেজ যতটা সহজ ভেবেছিল ততটা সহজ হয়নি তার এই যন্ত্রটি তৈরি করতে। দেখা গেল তিনি 1827 সাল পর্যন্ত মাত্র 2000টি খন্ড তার এই যন্ত্রে জোড়া লাগাতে পেরেছিল। তারপর ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া টাকা ফুরিয়ে আসে। ফলে চার্লস ব্যাবেজ তার এই যন্ত্রটি আর সম্পন্ন করতে পারেনি। তার এই যন্ত্র দিয়ে ছোটখাটো যোগ বিয়োগ গুন ভাগ করা যেত । এবং পাশাপাশি ছিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফলাফল ছাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা। যন্ত্রটি ছিল সম্পূর্ণ মেকানিক্যাল অর্থাৎ যা লিভার, গিয়ার, হাতল প্রভৃতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল।
এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন:
চার্লস ব্যাবেজ আরো একটি ইঞ্জিন এর ডিজাইন তৈরি করেন। এইবার তিনি নিজে তার নিজস্ব অর্থ দিয়ে এই ইঞ্জিনটি সম্পন্ন করার কথা চিন্তা করেন। কিন্তু দেখা দিল তার সহকর্মী ও অন্যান্য অঙ্কের পণ্ডিতেরা তার এই ইঞ্জিনের মেকানিজম বুঝতে পারতেন না। আসলে তার তথ্য গুলো ছিল 100 বছর এগিয়ে যে কারণে তার সহকর্মীরা ও অন্যান্য অংকের পণ্ডিতেরা বুঝতে পারতেন না। সত্যিকার অর্থে চার্লস ব্যাবেজ এর ইঞ্জিনে আধুনিক কম্পিউটারের অনেক গুণই ছিল। যেমন কার্ডের মাধ্যমে তথ্য ধরে রাখা এবং ২টি ৫০ অংকের সংখ্যার গুণ এক মিনিট করে ফেলা। তার এই ইঞ্জিনে স্মৃতি ভান্ডারে ১০০০ রাশি জমা রাখা যেত।
আধুনিক কম্পিউটারের জনক কে
আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়ে থাকে চার্লস ব্যাবেজকে। কারণ তার তৈরি ডিফারেন্স ইঞ্জিন এবং এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন কম্পিউটার তৈরি সুস্পষ্ট ধারণা দেয়।
কম্পিউটার কাকে বলে
ক্যালকুলেটিং মেশিন:
1882 সালে ফ্রাঙ্ক স্টেফেন যোগ বিয়োগ গুন ভাগ করার জন্য একটি যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর তৈরি করেন। এর মাধ্যমে আধুনিক ক্যালকুলেটর এর সূচনা হয় এবং প্রথম আধুনিক ক্যালকুলেটর দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্র।
তারপর ডরফেল্ট 'কমটোমিটার' নামক আরেকটি ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করেন। যা বহু অংক বিশিষ্ট সংখ্যার যোগ বিয়োগ গুন ভাগ করতে পারত। পরবর্তীতে জার্মানির এক ছাত্র কনরড জুজ 1930 সালে স্বয়ংক্রিয় একটি ক্যালকুলেটর তৈরি করেন। তার এই ক্যালকুলেটর কম্পিউটার তৈরি কে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়।
1940 সালে জর্জ স্টিরিটস ও জন আটানফস একত্রে একটি কমপ্লেক্স ক্যালকুলেটর তৈরি করেন । তাদের এই ক্যালকুলেটরের ভিত্তি ছিল বাইনারি সংখ্যা এবং তথ্য সংরক্ষণের জন্য যে মেমোরি ব্যবহার করা হতো তা ছিল ক্যাপাসিটর দিয়ে তৈরি।
প্রথম ইলেকট্রনিক কম্পিউটার:
1937-44 সাল পর্যন্ত আইবিএম কোম্পানির সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের আইফেন হার্বাড বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথিবীর প্রথম বৈদ্যুতিক যান্ত্রিক কম্পিউটার তৈরি করা হয়। যা ছিল এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন এর বাস্তব রূপ।এনালাইটিক ইঞ্জিনে যেখানে গিয়ার ব্যবহার করা হয়েছিল সেখানে এই বৈদ্যুতিক কম্পিউটারে গিয়ারের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে বৈদ্যুতিক শক্তি।আইবিএম কোম্পানির তৈরিকৃত প্রথম কম্পিউটারের নাম দেওয়া হয়েছিল MARK-1। এ কম্পিউটারটির গতি ছিল খুবই ধীর, ছিল বিশাল ও ওজন ছিল প্রায় 5 টন। এই কম্পিউটারে 23 ডিসিমাল ডিজিট সহ 72টি ওয়ার্ড ব্যবহার করা যেত। এ কম্পিউটারটির শেষ আপডেট হয়েছিল 1944 সালে। তারপর আইবিএম কোম্পানি আরো একটি কম্পিউটার নিয়ে আসে যার নামকরণ করা হয়েছিল MARK-2।
1942 সালে আইওয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড: জন আটানাসফ ভালভ দিয়ে একটি কম্পিউটার তৈরি করেন যার নামকরণ করা হয়েছিল এবিসি। এই কম্পিউটারে গাণিতিক ও যুক্তি মূলক কাজে ভ্যাকুম টিউব ব্যবহার করা হয়েছিল। এবং তথ্য সংরক্ষণ করার জন্য ক্যাপাসিটর ব্যবহার করা হয়েছিলো।
এই কারণে বলা হয়ে থাকে 1940 সালের দিকে ইলেকট্রনিক কম্পিউটার তৈরির প্রচেষ্টা শুরু হয়।
Good post
ReplyDeletePost is informative
ReplyDeletegood post
ReplyDelete